বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন
আজ আরাফায় ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, তাওবার সুবর্ণ সুযোগ!
অনলাইন ডেস্ক
নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার হিজরি ১৪৪৬ সালের ৯ জিলহজ পবিত্র হজের প্রধান পর্ব আরাফায় পালিত হচ্ছে। লাখো হজযাত্রী আজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফার ময়দানে অবস্থান করবেন এবং সন্ধ্যার পর মুজদালিফার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন, যেখানে তাঁরা রাত কাটিয়ে শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের জন্য কংকর সংগ্রহ করবেন।
ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে হজযাত্রীরা প্রস্তুত হচ্ছেন আরাফার মাঠে উপস্থিতির জন্য—যা হজের কেন্দ্রীয় রোকন। এর আগে তারা মিনার তাঁবু শহরে রাত কাটিয়ে হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন।
মিনা থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আরাফায় উপস্থিত হজযাত্রীরা মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা শুনবেন এবং জোহর ও আসরের নামাজ একত্রে আদায় করবেন। এরপর প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরের মুজদালিফায় যাত্রা করবেন, যেখান থেকে শয়তানকে প্রতীকী পাথর ছোড়ার জন্য পাথর সংগ্রহ করবেন।
সৌদি প্রশাসনের বরাতে গণমাধ্যম জানিয়েছে, এ বছর প্রায় ১৫ লাখ হজযাত্রী বিভিন্ন দেশ থেকে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। তীব্র গরমের আশঙ্কায় ৪০টির বেশি সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার কর্মী নিয়োজিত রয়েছে। তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় তৈরি করা হয়েছে ৫০ হাজার বর্গমিটার ছায়াযুক্ত স্থান, বসানো হয়েছে ৪০০টির বেশি শীতলীকরণ ইউনিট এবং মোতায়েন করা হয়েছে হাজার হাজার চিকিৎসা কর্মী।
আনাদোলু বার্তা সংস্থার মতে, গত হিজরি বছর (১৪৪৫ হিজরি / ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে) হজ পালনকারীর সংখ্যা ছিল ১৮ লাখ ৩৩ হাজার ১৬৪ জন। এদের মধ্যে সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ হজযাত্রী ছিলেন ২ লাখ ২১ হাজার ৮৫৪ জন। হজে অংশ নিয়েছিল বিশ্বের ২০০টিরও বেশি দেশের মানুষ।
এবার ১২ বছরের নিচের শিশুদের হজে অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অনুমতিপত্র ছাড়া হজ পালনের চেষ্টা করলে ৫ হাজার ডলার জরিমানা এবং ১০ বছরের সৌদি আরব প্রবেশ নিষেধাজ্ঞার বিধান রাখা হয়েছে।
গত বছর হজে অংশ নেওয়া মৃতদের ৮০ শতাংশই ছিলেন অনুমতিপত্রবিহীন, যাদের অনেকে ছিল মিশর ও ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক। তারা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আবাসন ও পরিবহন সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন এবং ৫১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় মৃত্যুবরণ করেন।
হজ মুসলিম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম, যা হিজরি বর্ষপঞ্জির শেষ মাসে অনুষ্ঠিত হয়। সক্ষম প্রত্যেক মুসলিমের জীবনে একবার হজ পালন ফরজ।
হজের শুরুতে পুরুষরা সাদা ইহরাম কাপড় পরিধান করে এবং নারীরা শালীন পোশাকে মাথা ঢেকে ইহরামে প্রবেশ করেন। এরপর তাঁরা পবিত্র কাবা শরিফ ঘিরে তাওয়াফ করেন এবং সাফা-মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সাতবার হাঁটেন—যাকে বলা হয় সাঈ।
তাওয়াফ ও সাঈ শেষে হজযাত্রীরা মক্কা থেকে ৫ কিলোমিটার দূরের মিনায় গিয়ে তাঁবু শহরে রাত কাটান। এরপর আজ তারা আরাফার ময়দানে অবস্থান করছেন, যেখানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বিদায় হজের ঐতিহাসিক খুতবা দিয়েছিলেন।
সূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি